করোনা রোগীকে : উপুড় করে শোয়ানোয় জীবন রক্ষা পেল!

যুক্তরাষ্ট্রের লং আইলান্ড জুইশ হাসপাতালের আইসিইউ থেকে ডাঃ মঙ্গলা নরসিমহানের(স্পেশালিষ্ট: পালমনোলজি / জেনারেল পালমোনারি মেডিসিন, ক্রিটিকাল কেয়ার মেডিসিন)কাছে শুক্রবার একটি জরুরি কল এলো। কোভিড-১৯ আক্রান্ত ৪০ বছরের  কোটার এক ব্যক্তির অবস্থা শোচনীয়, তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া দরকার কি না তা দেখতে আইসিইউতে এই ডাঃ মঙ্গলা নরসিমহানকে ডাকা হল।

করোনা রোগীকে : উপুড় করে শোয়ানোয় জীবন রক্ষা পেল!

তখন ডা নারসিমাহন  বলেন তার সহকর্মী চিকিতসকে বললেন-

আমি আসতে আসতে রোগীকে পেটের ওপর শোয়ানোর চেষ্টা কর এবং দেখ তাতে কাজ হয় কি না

ডা নারসিমাহন এর আর আইসিইউতে যাওয়ার দরকার হল না। তার এই টোটকায় কাজ দিল

ছবিঃ 

এই তথ্য দিয়ে সিএনএন তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চিকিসকরা গুরুতর অসুস্থ করোনাভাইরাস  আক্রান্ত রোগীদেরকে- তাদের পেটের ওপর শুইয়ে (উপুড় করে শোয়ানো) ফল পাচ্ছেন, এটা তাদের ফুসফুসে অক্সিজেন চলাচল বাড়িয়ে দেয়

নিউ ইয়র্ক রাজ্যের অলাভজনক হেলথকেয়ার নেটওয়ার্ক নর্থওয়েল হেলথের(যা নিউ ইয়র্কের 23 টি হাসপাতালের মালিক) ক্রিটিকাল কেয়ার বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ডাঃ নরসিমহান বলেন,

এই পদ্ধতিতে আমরা অনেকের জীবন বাঁচাচ্ছি, একশভাগ সত্যি

এটা খুবই সাধারণ একটি কাজ এবং আমরা দারুণ উন্নতি দেখছি। প্রতিটি রোগীর ক্ষেত্রেই আমরা এটা করে দেখতে পারি।

বিষয়ে ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল আইসিইউর পরিচালক ডা ক্যাথরিন হিবার্ট বলেন, “একবার যদি দেখেন এটা কাজে দিয়েছে তাহলে আপনি এটা বার বার করতে পারেন এবং আপনি দেখবেন এটা খুব দ্রুত কাজে দেয়। এবং এর মাধ্যমে 'আমরা ফুসফুসের কিছু অংশ খুলছি'

করোনাভাইরাস রোগীদের প্রায়ই মৃত্যু হয় এআরডিএস বা অ্যাকিউট রেসপিরেটোরি ডিসট্রেস সিনড্রোমে। ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া অন্যান্য অসুখেও এই সিনড্রোমে রোগীদের মৃত্যু হয়। 

 

এ বিষয়ে সাত বছর আগে নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিন ফরাসি চিকিতসকদের একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয় এবং সেখানে বলা হয়, এআরডিএসের রোগী যাদের ভেন্টিলেটর সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে তাদের উপুড় করে রাখা হলে মৃত্যু ঝুঁকি কম থাকে

তখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের চিকিসকরা ভেন্টিলেটর সাপোর্টে থাকা এআরডিএস রোগীদের উপুড় করে রাখায় গুরুত্ব দিয়ে আসছে। এখন নভেল করোনাভাইরাস রোগীদের ক্ষেত্রে তারা এই কৌশলের প্রয়োগ দ্বিগুণ করে ফল পাচ্ছে।


লং আইল্যান্ড জুইশ হাসপাতালে যখন ওই রোগীকে পেটের ওপর শোয়ানো হয়েছিল, তখন তার অক্সিজেনের স্যাচুরেশন হার (রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা) ৮৫% থেকে ৯৮% পর্যন্ত চলে যায়, এটি একটি বিশাল উন্নতিভেন্টিলেটর সাপোর্টের রোগীদের সাধারণত দিনে প্রায় ১৬ ঘণ্টা উপুড় করে রাখা হয়। বাকি সময়টা পিঠের ওপর ভর করে শোয়ানো হয় যাতে চিকিসকরা সামনের দিক থেকে সব দেখে তার চিকিতসা  দিতে পারেন

 

ক্রিটিকাল কেয়ার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগীকে পেটের ওপর শোয়ালে, এটি অক্সিজেনকে আরও সহজে ফুসফুসে যেতে দেয়। যা পিছনে থাকাকালীন, শরীরের ওজন কার্যকরভাবে ফুসফুসের কিছু অংশকে চেপে রাখে

 “পেটের ওপর রেখে আমরা তাদের ফুসফুসের একটা অংশকে উন্মুক্ত করে দিচ্ছি, যেটা আগে উন্মুক্ত ছিল না,” বলেন ডাঃ হিবার্ট

 

২০১৩ সালের ফরাসি ওই গবেষণায় শুধু ভেন্টিলেটরের রোগীদের কথা বলা হয়। তবে যারা গুরুতর অসুস্থ নয় তাদের ক্ষেত্রে উপুড় করে রাখাটা কতটা কাজে দেবে তা স্পষ্ট করে বলা নেই

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর রাশ ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে একটি  গবেষণা চলছে। যেসব রোগীদের শ্বাস নিতে ভেন্টিলটর দরকার  হয় না কিন্তু নাকে নল ঢুকিয়ে অক্সিজেন দিতে হয়- তাদের উপুড় করে শোয়ালে কোনো ফল পাওয়া যায় কি না

সেখানকার কার্ডিওপালমোনারি সায়েন্সেস বিভাগের চেয়ারপারসন ডেভিড ভিনস বলেন, “আমরা দেখব উপুড় করে শোয়ালে কোন ফল আসে কি না। এবং তা ফলপ্রসূ হলে কতক্ষণ তাদের এভাবে থাকা উচিত।

# অসুস্থ রোগীর ক্ষেত্রে সতর্কতাঃ  

১) মারাত্মক অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে যেতে বলুন।

২) রোগীকে মাস্ক ব্যবহার করতে বলুন।

৩) রোগীর নাম, বয়স, পূর্ণ ঠিকানা সংরক্ষন করুন এবং আইইডিসিআর এর করোনা কন্ট্রোল রুমে (০১৭০০-৭০৫৭৩৭) অথবা হটলাইন (১৯৪৪-৩৩৩২২২, 01937-110011, 01937-000011, 01927-711784, 01927-711785) যোগাযোগ করুন।

# অন্যান্য করোনাভাইরাস জরুরি সেবাঃ  

  • ৩৩৩ ন্যাশনাল কল সেন্টার
  • ১৬২৬৩ স্বাস্থ্য বাতায়ন
  • ১০৬৫৫ আইইডিসিআর
  • ০৯৬১১৬৭৭৭৭৭ বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন
  • ১০৯ ন্যাশনাল হেল্পলাইন 

তথ্যসূত্রঃ-

www.corona.gov.bd

fbclid=IwAR3MtehoKUp20OcB1RI_p29jU_Lkzlfz09sANmU6Vq5RcE4w2PNSsePGnsM

১।https://edition.cnn.com/2020/04/14/health/coronavirus-prone-positioning/index.html

২।https://www.nejm.org/doi/full/10.1056/NEJMoa1214103

৩।https://clinicaltrials.gov/ct2/show/NCT04325906

ছবিঃ https://m.bdnews24.com/bn/detail/world/1747076?